বাস দুর্ঘটনা রুখতে এককভাবে চালকদেরই করছে সরকার। তাই চালকদের কাউন্সেলিং করাতে চায় পরিবহন দফতর।
সব পক্ষের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তুলতে পারলেই পথ দুর্ঘটনা কমানো যাবে। দুটি বাসের রেষারেষি, বাস চালকদের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয়, পথচারী ও যাত্রীদের প্রতি দায়িত্ববোধ বাড়াতে নয়া উদ্যোগ নিল পরিবহন দফতর। রাজ্যে পথ দুর্ঘটনা কীভাবে কমানো যাবে সেই বিষয় নিয়ে পরিবহন দফতর ও বাস মালিকদের মধ্যে আলোচনা হয়। পথ দুর্ঘটনা কমাতে বিশেষ চিন্তাভাবনা করছেন রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী সেই বিষয়ে জানালেন তিনি। বাস চালক এবং কন্ডাক্টরদের কিছু ভুল চিন্তাভাবনার জন্যই পথ দুর্ঘটনা বেশি হচ্ছে। বেঘোরে প্রাণ যাচ্ছে বহু মানুষের। এই পরিস্থিতিতে বাস চালকদের কিছু সঠিক চিন্তাভাবনা, দায়িত্ববোধ ও পারস্পরিক সমন্বয় সেই দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেক কমিয়ে দিতে পারে। সেই বিষয়ে মনোচিকিৎসক দিয়ে বাসচালকদের কাউন্সেলিংয়ের সমাধানের পথ খোঁজা হবে। এই বিষয়ে বাস মালিকরা যাতে নিজেরাই উদ্যোগী হন, সেই আর্জি জানিয়েছেন পরিবহণ মন্ত্রী। বাস মালিকদের সংগঠন পরিবহণ মন্ত্রীর এই প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়েছে। তবে তারা প্রশাসনের কাছে সহযোগিতার আর্জি জানিয়েছে। পরিবহণ মন্ত্রী সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন।
মনোচিকিৎসার বিষয়ে পরিবহন মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী বলেন, ‘পথ দুর্ঘটনা কমাতে শুধুমাত্র পরিবহন দপ্তর, বাসমালিকেরা কিংবা ট্রাফিক পুলিশ ও প্রশাসন উদ্যোগী হলে হবে না। আগে বাস চালকদের সচেতন হতে হবে। এ ক্ষেত্রে তাঁদের কাউন্সেলিং করালে তাঁরাও যেমন উপকৃত হবেন, তেমনই উপকৃত হবেন পথ চলতি মানুষ।’
পরিবহণ মন্ত্রীর এই প্রস্তাবে সাড়া দিয়েছে বাস মালিকদের একাধিক সংগঠন। তারা মনে করেন, দুর্ঘটনা কমাতে বাসচালকদের কাউন্সেলিং করা প্রয়োজন। তবে এর জন্য জেলা স্তরে পরিবহণ দফতরের আরটিও, এআরটিও ও ট্রাফিক পুলিশ বিভাগকে সহযোগিতা করতে বলেছেন তাঁরা। তবে বাস চালকরা দৈনিক ভিত্তিতে রোজগার করেন। ফলে একদিন বসে যাওয়ার মানে হল যে তাঁদের উপার্জন বন্ধ হয়ে যাওয়া। তাই কাউন্সেলিংয়ের দিন যেন রাজ্য সরকার বাসচালকদের ভাতা দেয় সেই প্রস্তাব দিয়েছে।
