রবীন্দ্র সরোবরে গাছের নাম ভুল থাকায় বিভ্রান্তি
দক্ষিণ কলকাতার রবীন্দ্র সরোবরে বহু প্রজাতির গাছ, পশু, পাখি, কীটপতঙ্গ রয়েছে। এই সরোবর একটি জাতীয় সরোবর। সেখানে সকাল বিকেল প্রাতঃভ্রমণকারী ও সান্ধ্য ভ্রমনকারীদের আনাগোনা লেগেই থাকে।
পাশাপাশি সারাদিন বিভিন্ন ক্ষেত্রের খেলোয়াড়রা এখানে সমবেত হয়ে খেলাধুলা করে থাকেন। শহরের বাইরেরও প্রচুর মানুষ এখানে শুধুমাত্র ঘোরার জন্য আসেন। এখানে বিভিন্ন গাছের নাম গুলো গাছের গায়ে লাগানো লেভেলে লিখ সেঁটে দেওয়া হয়েছে । সাধারণভাবে প্রচলিত নাম গাছের গায়ে সেঁটে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বৈজ্ঞানিক নামটিও লেবেলে রয়েছে। সম্প্রতি নজরে এসেছে বেশ কিছু গাছের নাম ভুল দেওয়া হয়েছে। যেমন একটি ছবি খুব ভাইরাল হয়েছে, একটি পাম গাছের গায়ে সেঁটে দেওয়া লেবেলে লেখা রয়েছে বট গাছ। এই নিয়ে সত্যিই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
গাছের গায়ে যে লেভেল রয়েছে সেখানে একটি করে কিউআর কোডও রয়েছে। কেউ নাম না বুঝতে পারলে, কিউআর কোর্ড স্ক্যান করলেই নামটি দেখাবে। তারাও সেই ভুল নামটি দেখতে পাবেন। রবীন্দ্র সরোবরের যত প্রজাতির গাছ ও পাখি, কীটপতঙ্গ রয়েছে তা সত্যিই শহরের মধ্যে এই সরোবরকে জীববৈচিত্র্যের বিচারে বিশেষ স্থান করে দিয়েছে। ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইবুনালের নির্দেশ অনুসারে এই সরবরের তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে সরাসরি দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদকে রাখা হয়েছে। জীববৈচিত্র্য বোর্ড পাশে সঙ্গী হিসেবে রয়েছে। তবে মূল বিষয়গুলি দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদই দেখে থাকে। আর সার্বিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব রয়েছে কেএমডিএর হাতে। তবে গাছের নামকরণের ক্ষেত্রে ধরে নেওয়া যেতে পারে উদ্ভিদবিদদের সহযোগিতা নিলে কাজটি সুষ্ঠুভাবে হতে পারে।
এই সরোবরের প্রতিদিন বহু জ্ঞানীগুণী মানুষ যাতায়াত করেন। সঙ্গে সজাগ দৃষ্টি রয়েছে পরিবেশবিদদের। পরিবেশ প্রযুক্তিবিদ সোমেন্দ্র মোহন ঘোষ বলেন, ‘গাছের নামকরণের ক্ষেত্রে সরাসরি জীববৈচিত্র্য বোর্ড বা বায়োডাইভারসিটি বোর্ডকে দায়িত্ব দিলে তারা তাদের অধিনে থাকা উদ্ভিদবিদদের এ কাজে অনায়াসে সামিল করতে পারবেন। ‘ বায়োডাইভারসিটি বোর্ডের চেয়ারম্যান ডক্টর হিমাদ্রিশেখর দেবনাথ বিষয়টি জানার পর বলেন, ‘তার বোর্ড এই দায়িত্ব পেলে কাজটি যোগ্য উদ্ভিদবিদদের দিয়ে করিয়ে দিতে সম্মত আছেন।’
