নারী নির্যাতন বা রাজ্যে কর্মসংস্থানের আকাল, এর কোনওটাই ২৬ শের বিধানসভা ভোটের বিষয় হবে না। বিষয় হবে প্রাদেশিকতা ও বাঙালীদের বাংলাদেশী বলে দেগে দেওয়ার বিষয়টি।
ছাব্বিশে নির্বাচনের আগে বাঙালি অস্মিতা রক্ষার লড়াইয়ে নেমে ডোরিনা ক্রসিংয়ের মঞ্চ থেকে সেই ইঙ্গিতই দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলেজ স্কোয়ার থেকে ডোরিনা ক্রসিংয় পর্যন্ত মিছিলের ডাক দিয়েছিল । এদিন সেই মিছিল থেকে বিজেপি- তথা কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বাংলা ভাষায় কথা বলা পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্থার প্রকিবাদে সুর চড়ালেন মমতা। মিছিলের নেতৃত্বে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী নিজে, সঙ্গে পা মেলালেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শশী পাঁজা, দোলা সেন-সহ একাধিক শীর্ষ নেতা। এদিন মিছিল শেষে মুখ্যমন্ত্রী নাম না করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা করে বলেন, “বাঙালিদের ওপর এত রাগ কেন? কী ক্ষতি করেছে বাঙালি আপনাদের? মনে রাখবেন, বিনা যুদ্ধে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়ব না।”
মমতা বন্দোপাধ্যায় বললেন, “আমি বিহারের কথা শুনেছি, ৩০.৫ লক্ষ ভোট বের করে দিয়েছে। এটা করেই মহারাষ্ট্রতেও বিজেপি জিতেছিল, দিল্লিতেই তাই। নাহলে জিতত না। বিহারেও সেই পরিকল্পনা চলছে।” আর ছাব্বিশেই বাংলার নির্বাচন। সে প্রসঙ্গেই মমতার হুঁশিয়ারি, “আমরা কিন্তু বিনা যুদ্ধে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়ব না।”
তাঁর অভিযোগ, “ভারত সরকার একটা লুকিয়ে নোটিফিকেশন করেছে। তাতে বলা হয়েছে, যাঁকে সন্দেহ করবে, বাংলা ভাষায় কথা বলে, গ্রেফতার করবে, ডিটেনশন ক্যাম্পে রেখে দেবে।”
তিনি বলেন, “আমরা সকলের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু বাঙালিদের অসম্মান বা নিপীড়ন হলে চুপ করে বসে থাকব না। দিল্লির শাসকেরা যেন না ভাবেন, গোটা দেশ তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি। যাকে খুশি তাঁকে জেলায় পাঠিয়ে দেবেন, আর কেউ বাংলায় কথা বললেই তাকে বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা বলে দাগিয়ে দেবেন , এটা মেনে নেওয়া যাবে না।”
