নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা ও হড়পা বানের ঘটনায় বহু বিদেশি পর্যটক ও তীর্থযাত্রী নিখোঁজ হয়েছেন। এই বিপর্যয়ে তিব্বতও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে এখনও পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। নিখোঁজ ৫৪৬ জন। তাঁদের মধ্যে বহু ব্রিটিশ নাগরিকও রয়েছেন। বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ ব্রিটিশ নাগরিকদের তালিকায় শিশু, এনএইচএস কর্মী এবং ধর্মযাজকরাও রয়েছেন। ব্রিটিশ সরকারও নিখোঁজ নাগরিকদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং নেপাল ও চিনের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে নিখোঁজদের খোঁজে সর্বশক্তি নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ হড়পা বান বিপর্যয়ের পর প্রায় নিখোঁজ ৪ হাজারেরও বেশি মানুষ। স্বজন হারানোর কান্না আর পরিবারের সদস্যদের খোঁজে দিশেহারা তাঁদের প্রিয়জনেরা। হাসপাতালের সামনে ভিড় জমছে আত্মীয় স্বজনের। নিখোঁজ প্রিয়জনের সন্ধানে দূরদূরান্ত থেকে জড়ো হচ্ছেন মানুষ। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে কাঠমান্ডুর হাসপাতাল।
গত সপ্তাহের এই বিপর্যয়ের পর দিন যত গড়াচ্ছে, ততই বাড়ছে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ। সময়ের সঙ্গে লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। নেপাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে শেষ পাওয়া খবরে, এই বিপর্যয়ে এখনও পর্যন্ত ৯০৩টি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও ৪২০০-র বেশি মানুষ নিখোঁজ। এর মধ্যে ৩২০ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। উদ্ধারকাজ চললেও ধ্বংসস্তূপের নীচে এবং দুর্গম এলাকায় আটকে থাকা বহু মানুষের কাছে এখনও পৌঁছনো সম্ভব হয়নি।
নেপালের আধিকারিকদের বক্তব্য, এখনও বহু দেহ কাদামাটির পুরু স্তরের নীচে আটকে রয়েছে। সেগুলি উদ্ধার করতে আরও সময় লাগবে। জলের তোড়ে বহু দেহ মূল ঘটনাস্থল থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে ভেসে গিয়েছে। তাই উদ্ধারকাজ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
একইসঙ্গে উদ্ধার ও ত্রাণ কাজ আরও জোরদার করতে বলা হয়েছে নেপাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে। সারি সারি মৃতদেহ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে এখনও। কাদার পাঁকের মধ্যে থেকেই মিলছে দেহের খোঁজ। একাধিক বিদ্যুৎপ্রকল্পের টানেলে শ্রমিকদের আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। হাইড্রোপ্ল্যান্ট প্রজেক্টে কর্মরত বহু শ্রমিকের এখনও খোঁজ নেই। নেপালি আর্মি ট্রুপ ও ইঞ্জিনিয়াররা ড্রিল মেশিন দিয়ে সুড়ঙ্গের মুখ থেকে পাথর সরানোর কাজ করছেন বলে জানা গিয়েছে।
এদিকে সোমবার তামিলনাড়ুর এক ভ্রমণ সংস্থা জানিয়েছে, তাদের ৪৯ জনের একটি পর্যটকদল কৈলাস-মানস সরোবর দর্শনে গিয়েছিল। বুধবারের ঘটনার পর থেকে তাঁদের কারও সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যায়নি। কলকাতার একটি পর্যটকদলও নেপালে নিখোঁজ বলে খবর। তাতে ৩২ জন ছিলেন। তাঁদের নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মোট ৩৭ জনের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ ভারতীয়দের সকলে অবশ্য পর্যটক নন। কেউ কেউ গিয়েছিলেন সেখানকার জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে শ্রমিকের কাজ করতে। এ ছাড়া, নেপালের অনেক সেনা জওয়ান ও পুলিশ আধিকারিকেরও খোঁজ পাওয়া যায়নি হড়পা বানের পর থেকে।
