মুখ্যমন্ত্রী উত্তরবঙ্গের চা শ্রমিকদের জন্য আর্থিক ও ত্রাণ প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। কালীপুজোর আগেই চা বাগান শ্রমিকদের জন্য রেশনে চালের পরিমান ৩৫ কেজি থেকে বাড়িয়ে ৫০ কেজি করার ঘোষণা করেন। উত্তরবঙ্গে প্রশাসনিক বৈঠকের পরই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই ঘোষণা করেন। পাশাপাশি সাধারণ রেশন গ্রাহকদের ক্ষেত্রেও প্রতি মাসে চালের পরিমাণ বাড়িয়ে ৫০ কেজি করার বিষয়ে রাজ্য সরকার চিন্তাভাবনা করছে বলে জানিয়েছোন। এ সংক্রান্ত পরিকল্পনা চূড়ান্ত রূপ পেলেই রাজ্যের রেশন গ্রাহকেরা অতিরিক্ত এই সুবিধা পেতে শুরু করবেন।
এদিন উত্তরবঙ্গের সামগ্রিক উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি অঞ্চলের দীর্ঘদিনের সমস্যা, বন্ধ চা বাগানগুলি চালু করার বিষয়ে এবার কড়া পদক্ষেপের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশে থাকা শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিংকে দায়িত্ব মনে করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী রসিকতার সুরেই বলেন, ‘আপনাকেই বন্ধ থাকা সমস্ত চা বাগান খুলতে হবে, সব কাজ তো আর মুখ্যমন্ত্রীর একা করলে চলবে না!’
উত্তরবঙ্গের বন্ধ বাগানগুলির শ্রমজীবী মানুষের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা নিজেদের জব কার্ড প্রস্তুত রাখুন, দ্রুত কাজ শুরু হতে চলেছে। ‘প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক যোজনা’র আওতায় সব শ্রমিককেই অন্তর্ভুক্ত করা হবে।’
উত্তরবঙ্গের সার্বিক পরিকাঠামোর উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মানোন্নয়ন, পর্যটনের বিকাশ এবং ক্রীড়া ক্ষেত্রকে নতুন রূপ দিতে মঙ্গলবার একগুচ্ছ বড় সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।এদিন শিলিগুড়ির প্রশাসনিক ভবন ‘উত্তরকন্যা’য় এক উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকে দার্জিলিং পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্স অঞ্চলের জন্য একাধিক প্রকল্পের অনুমোদনের কথা জানালেন। সেই সঙ্গে প্রত্যেককে এককালীন ৫,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
বৈঠক শেষে এসব অঞ্চলের চিকিৎসা ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে এবং নতুন প্রকল্পগুলির কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী ২০২৭ সালের ৯ ডিসেম্বর কালিম্পং মেডিক্যাল কলেজের শিলান্যাস করা হবে। পাশাপাশি দার্জিলিং, কার্শিয়াং, কালিম্পং, মিরিক এবং শিলিগুড়ির মহকুমা ও জেলা হাসপাতালগুলির ব্যাপক মেরামতি, আধুনিকীকরণ এবং পরিকাঠামোগত মানোন্নয়ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার।’
বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা, জলপাইগুড়ির বিজেপি সাংসদ জয়ন্ত রায়, রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্য শঙ্কর ঘোষ, নিশীথ প্রামাণিক, বিশাল লামা ও বিরাজ বিশ্বাস-সহ উত্তরবঙ্গের উচ্চপদস্থ পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা।
যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পর্যটনের প্রসারে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথাও ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, কার্শিয়াং থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত দীর্ঘ ২১ কিলোমিটারের একটি রোপওয়ে নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ি অঞ্চলে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই বিকল্প মাধ্যম চালুর ফলে যেমন তীব্র যানজটের সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে, তেমনই স্থানীয় বাসিন্দা ও দেশ-বিদেশের পর্যটকদের যাতায়াত অনেক সহজ ও আনন্দদায়ক হয়ে উঠবে। পাশাপাশি, রাজ্যের অধীনস্থ সমস্ত সরকারি পর্যটক আবাসগুলির দ্রুত মেরামতি ও সংস্কারের কাজ সম্পূর্ণ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পাহাড়ের ক্রীড়া প্রেমী যুবসমাজের প্রতিভা বিকাশে লেবং গ্রাউন্ডকে আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক স্টেডিয়ামে উন্নত করার প্রস্তাবের সবুজ সংকেত দিয়েছেন।
