রাজ্যের সরকারি পুজোর তালিকায় এবারে স্চথান পেল চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো

রাজ্যের সরকারি উৎসবের তালিকায় এবার জায়গা করে নিল চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো। আসন্ন জগদ্ধাত্রী পুজো উপলক্ষে মঙ্গলবার চন্দননগরে আয়োজিত প্রশাসনিক বৈঠকের এক অনুষ্ঠানে এসে এই কথা জানালানে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাসগুপ্ত এবং রাজ্যের পুর ও নগরন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এবং প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই।
এই পুজোকে কেন্দ্র করে হুগলি জেলার বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকদের নিয়ে নানা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। চোরবাগানের দুর্ঘটনার কথা মাথায় রেখে রাজ্যের তরফে একাধিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে৷ চন্দননগরের আলোক শিল্পকে যাতে দেশের মানচিত্রে বড় আকার ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তার উদ্যোগও গ্রহণ করা হচ্ছে। জগদ্ধাত্রী পুজোর জন্য সরকারি অনুদানেরও ভাবনাচিন্তা করা হচ্ছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। এদিন চন্দননগর আলো টুরিজিম হাবের মিটিং হলে হুগলির জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি, চন্দননগর পুলিশ কমিশনার সুনীল কুমার যাদব-সহ প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা এই বৈঠকে যোগ দেন।
স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, ‘স্টেট ফেস্টিভ্যাল হিসেবে ঘোষণার পর যাতে সুষ্ঠুভাবে পুজো হয়, তার জন্যই বড়সড় পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের সরকারের। প্রশাসনিক বৈঠক হয়েছে। আগামী দিনে আরও নতুন চিন্তা করা হবে। জেলার প্রশাসনিক দফতর গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে। তাতে আমরা খুশি। চন্দননগরের আলোক শিল্প নিয়েও চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে৷ এই পুজোকে কেন্দ্র করে যাতে চন্দননগরের আলো আরও উন্নত হয় সেটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। এখানকার আলোক শিল্প যাতে কয়েক বছরের মধ্যেই সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে উন্নীত হতে পারে, সেটাও ভাবা হচ্ছে। কলকাতার মতো আলোর শো করার ক্ষেত্রে চন্দননগরের আলোক শিল্পীদের যাতে বরাত দিতে পারি, সেটা দেখছি।’
তিনি আরও জানিয়েছেন, সম্প্রতি দূর্গা পুজো নিয়ে একটা বড় আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে। তবে চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো বঞ্চিত হবে না। পুজো কমিটিকে আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে, তবে সেটা কীভাবে সেটা এখনও ঠিক হয় নি। এবারে সব রকমের ইমার্জেন্সির জন্য প্রস্তুত থাকা হবে। সেটা ঝড় জল বিদ্যুৎ বিভ্রাট যাই হোক না কেন, সব কিছু মোকাবিলার ব্যবস্থা থাকবে। লক্ষ্য শুধু মাত্র রাজ্যের বড় উৎসব পরিচালনা বা সতর্কতা নয়। এই উৎসবের প্রমোশন নিয়েও ভাবা হচ্ছে।
অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ‘প্রত্যেকটা পুজো প্যান্ডেলে যেন এন্ট্রি এবং এক্সিট পয়েন্ট খতিয়ে দেখা হয়। গঙ্গার ঘাটগুলির জন্য জোয়ার ভাটায় কতটা জল থাকছে সেটার বিষয়েও নজরদারি চলবে। সেই সঙ্গে সেবা শিবির হচ্ছে, যেখানে চিকিৎসা পরিষেবা থেকে সমস্ত কিছু সরকারি সাহায্য থাকবে দর্শনার্থীদের জন্য। জেলা প্রশাসনকে আমরা বলেছি, জগদ্ধাত্রী পুজোর সম্পূর্ণ ডকুমেন্টেশন করার জন্য। পরবর্তী বছরের জন্য যাতে কোনও সমস্যা না-হয়, যাতে মানুষ নতুন সরকারের আমলে পুজোর সুন্দর পরিবেশ অনুভব করতে পারেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটি একটা ডকুমেন্ট হিসেবে তৈরী করে রাখতে। পরবর্তী সময়ে সুবিধে হবে। জগদ্ধাত্রী পুজোর এই উৎসবে থাকবে একাধিক চমক। ফুটপাত সাজানো হবে আল্পনা দিয়ে। ফ্রেঞ্চ কলোনি গুলিকে সাজিয়ে তোলা হবে। গঙ্গার পার সাজানো হবে। মুখ্যমন্ত্রী আসবেন চন্দননগরে। ঠিক যেমন ইডেন গার্ডেনে দূর্গা পুজো নিয়ে অনুষ্ঠান হয়েছিল, তেমনই হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *