ইউনেস্কোর নাম ভাঁড়িয়ে প্রতারণার অভিযোগে ইন্দ্রনীলের বাড়িতে ইডি হানা

তৃণমূল কংগ্রেস আমলের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বাড়িতে এবারে ইডি হানা। মঙ্গলবার সকালে প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা ও গায়ক ইন্দ্রনীল সেনের একাধিক ঠিকানায় ইডি হানা দেয়৷ কসবা, হাইল্যান্ড পার্ক, সল্টলেক, হিন্দুস্তান পার্ক-সহ হুগলির সিঙ্গুরের বাগডাঙা ছিনামোড় গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত ছুটিপুর এলাকায় পৌঁছন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার আধিকারিকরা। মন্ত্রী ও তাঁর স্ত্রীর নিয়ন্ত্রণাধীন সংস্থার ভাইস প্রেসিডেন্ট সায়ন্তন মিত্র এবং ইন্দ্রনীল সেনের মেয়ের বাড়িতেও তদন্তকারী দল পৌঁছয়।
অভিযোগ ইউনেস্ক-র নাম ও লোগো ভাঙিয়ে দুর্গাপুজো পরিক্রমার টিকিট চড়া দামে বিক্রি করে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। সেই মামলার তদন্তেই এদিন অভিযান চালায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
ইডির দাবি, বাংলার দুর্গাপুজো ২০২১ সালে ইউনেস্কোর হেরিটেজ স্বীকৃতি পাওয়ার পরই শুরু হয়েছিল অন্য এক খেলা। সেই বিশ্বমানের আন্তর্জাতিক সংস্থার নাম অপব্যবহার করে প্রি-পূজা ও প্রিভিউ শোয়ের চড়া দামের টিকিট বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ওঠে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন এবং তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেনের বিরুদ্ধে।
হুগলির ঠিকানায় রয়েছে চন্দননগরের প্রাক্তন বিধায়ক ইন্দ্রনীল সেনের মোহর নামক বাগান বাড়ি ৷ কয়েক বিঘা জমির উপর নির্মিত বাগান বাড়িতে দরজা বন্ধ করে তল্লাশি চালায় ইডি।
উল্লেখ্য, অভিযোগে বলা হয়, গত তিন বছর ধরে এই টিকিট বিক্রির মাধ্যমে ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে। যে পুজোগুলোকে এই প্রদর্শনীতে বাছা হত, নিয়ম করে কেবল তারাই বড় বড় স্পনসর এবং পুরস্কার পেত। টিকিট বিক্রি ও স্পনসরশিপের বিপুল কোটি টাকার সামান্য একটু অংশ পেত পুজো ক্লাবগুলো। আর সিংহভাগ টাকাই চলে যেত ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর স্ত্রীর পকেটে। এতদিন ভীতি ও প্রভাবশালী চাপের কারণে মুখ খুলতে না পারলেও, এবার আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে জানান অভিযোগকারীরা। তার বাড়ির বাইরে সাধারণ মানুষ ভিড় করে ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেপ্তারির দাবি তোলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *