শুক্রবার সকালে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করতেই আম আদমি পার্টির সৌরভ ভরদ্বাজকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার পরেই পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন আপ কর্মী-সমর্থকরা। আটক করা হয় সিপিএম নেতা সৃজন ভট্টাচার্যকেও। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল হয় দিল্লির যন্তর মন্তর। দুপুর পর্যন্ত ৭০০-রও বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করল দিল্লি পুলিশ। আটক করা হয় সিপিএম নেত্রী বৃন্দা কারাট, আপ নেত্রী তথা দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আতিশী মারলেনা, সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব, আইসা নেত্রী নেহা বোরাকে।
একদিকে যখন পথ আঁকড়ে আন্দোলন চালিয়ে যায় বামেরা, অন্যদিকে পথে নামে যুব কংগ্রেস। যন্তর মন্তরে ঢোকার আগে তাদের আটকে দেয় পুলিশ। সেখানেও ধস্তাধস্তি হয়। ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা চলে। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তাল হয়ে ওঠে। কংগ্রেসও দাবি করে, তাঁদের মহিলা কর্মীদের টেনে ভ্যানে তোলা হয়। বিক্ষোভ সামলাতে প্রায় ৮-৯টি নিরাপত্তা জোন তৈরি করা হয় দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে। প্রতিটি জোনের দায়িত্বে ছিলেন পুলিশের সিনিয়র আধিকারিকরা। যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার বিভিন্ন রাস্তায় রাখা হয় ব্যারিকেড। মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীও। সকাল সাতটায় গুরুত্বপূর্ণ ১১টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দেয় দিল্লি পুলিশ।
বিজেপি বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ও শুক্রবার থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ অভিযান শুরু করেছে। ৮ অক্টোবর জেলা পর্যায়ে দেশের সর্বত্র ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ পদযাত্রা এবং জেলাশাসকদের দফতরের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশজোড়া ওই আন্দোলন-পর্বের মধ্যেই ৬ অক্টোবর সমস্ত বিরোধী দলের সাংসদদের নিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রা হবে।
এদিকে মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে ‘জেল ভরো আন্দোলন’ মঞ্চে পৌঁছন বর্ষীয়ান অভিনেতা নাসীরুদ্দীন শাহ। তাঁকে দেখে মাথা নত করে অভিবাদন জানালেন সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তাঁকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন নাসীরুদ্দীন। শুধু নাসীরুদ্দীন নন, সঙ্গীত পরিচালক বিশাল দদলানী, অভিনেত্রী শবানা আজমী-সহ আরও অনেক বলিউড তারকাকে দেখা গেল শিবাজি পার্কে।
