রবিবার দুপুরে সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের ক্যাম্পাসের মেন থিয়েটার হলের ভাড়া নেওয়া নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায় দুই গোষ্ঠী। এই ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশ্ন ইনস্টিটিউট। ক্যাম্পাসের পড়ুয়ায়দের একাংশের অভিযোগ ছিল, বহিরাগতরা ক্যাম্পাসে ঢুকে তাঁদের মারধর করেছেন। সোমবার এই ঘটনার কড়া ভাষায় সমালোচনা করলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, ‘যারাই করে থাকুক, এটা সমাজবিরোধী কার্যকলাপ, এটা বরদাস্ত করা হবে না। এটা কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।’ তাঁর দাবি, বাংলায় দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং দেশবিরোধী শক্তি সক্রিয় ছিল। প্রাক্তন সরকারের ছত্রচ্ছায়ায় তারা টিকে ছিল। তবে দেশের সংস্কৃতি ও পরম্পরার বিরোধী এই ধরনের কাজ মানুষ আর মেনে নেবে না বলেও সুর চড়ান তিনি। নকশাল আমলের প্রসঙ্গ টেনে পঞ্চায়েত মন্ত্রী বলেন, ‘সেই সময়ে মহাপুরুষদের ছবিতে কালি লাগানো এবং মূর্তি ভাঙার ঘটনা ঘটত। সেই দিন চলে গেলেও তাঁদের কিছু উত্তরসূরি এখনও রয়েছে।’
এদিকে উত্তেজনার মাঝে এসএফআইয়ের তরফে অনুষ্ঠানে থাকা ভারতমাতার ছবি ছেঁড়া হয় রবিবার। স্বামী বিবেকানন্দের ছবিতে লাথি মারা হয় বলে অভিযোগ তুলেছে এবিজিপি(অখিল ভারতীয় গ্রাহক পরিষদ) । যে বা যারা বিবেকানন্দের ছবিতে লাথি মেরেছে কিংবা ভারতমাতার অপমান করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, ‘যারা এই কাজ করেছে তারা বামমনস্ক হতে পারে। আবার নকশালও হতে পারে। তবে কোনও বাঙালি ছাত্র বিবেকানন্দকে লাথি মারতে পারে না।’ শিক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, শিক্ষা প্রাঙ্গণে কোনও ধরনের হিংসাই কাম্য নয়। তবে গন্ডগোলের মাঝে স্বামী বিবেকানন্দ বা ভারতমাতার ছবির অপমান কোনও বাঙালি বরদাস্ত করবে না এবং দোষীদের বিরুদ্ধে পুলিশ চরম আইনি পদক্ষেপ নেবে। তবে কি রবিবার এসআরএফটিআই তে বহিরাগতরা এসে গন্ডোগোল করেছে, এমন ইঙ্গিতই দিলেন উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী?
