গ্রামীণ উন্নয়ন এমন এক অগ্রাধিকারের ক্ষেত্র, যা কোনও অবস্থাতেই ফেলে রাখা যায় না। অথচ মাটিতে নেমে কাজ তদারকি করার বদলে বহু ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে চরম প্রশাসনিক অনীহা। বুধবার পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের ১২৫ দিনের কাজে গতি আনতে এই দপ্তরের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, পঞ্চায়েতে ১২ হাজার কোটি টাকার কাজ হয়েছে। এর মধ্যে সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা কেন্দ্রীয় সরকার দিচ্ছে। ভিবি-জি রামজি প্রকল্পে প্রতিদিন ২২ লক্ষ মানুষ কাজ করছেন। এ দিনের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে নিউটাউনে একটি পূর্ণাঙ্গ নতুন পঞ্চায়েত ভবন তৈরি হবে। এর জন্য ৫ একর জমি দেবে রাজ্য সরকার।
পর্যালোচনা বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী একগুচ্ছ জনকল্যাণমুখী সিদ্ধান্ত ও নতুন প্রকল্পের ঘোষণা করেন। তিনি জানান, নতুন রাজ্য সরকারের অধীনে ‘ভিবি জি-রামজি’ প্রকল্পের মাধ্যমে ২২ লক্ষ মানুষকে প্রতিদিন রোজগারের সুযোগ করে দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি নিউটাউনে পাঁচ একর জমির ওপর গড়ে তোলা হবে সুবিশাল নতুন পঞ্চায়েত ভবন।
তিনি মনে করান, ‘আমরা ইতিমধ্যেই ৬৫ লক্ষ ৬২ হাজার কর্ম দিবস তৈরি করতে সক্ষম হয়েছি এবং বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৭ লক্ষ কর্ম দিবস তৈরি হচ্ছে। আমাদের হাতে সময় কম থাকলেও কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া সম্পূর্ণ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে নতুন সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
পঞ্চায়েত দপ্তরে নিয়োগের ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ইঞ্জিনিয়ার-সহ একাধিক পদে এই নিয়োগ করা হবে। পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে এই নিয়োগ হবে। পঞ্চায়েতের কাজে গতি আনতেই এই নিয়োগ হবে বলে জানান তিনি।
এদিন দফতরের শীর্ষ আধিকারিকদের একাংশ মাঠ পর্যায়ে কাজ পরিচালনা করতে গিয়ে বেশ কিছু গুরুতর খামতি লক্ষ্য করেছেন। সূত্রের খবর, তাঁদের রিপোর্ট অনুযায়ী ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক (বিডিও) থেকে শুরু করে অনেক আধিকারিক বহু ক্ষেত্রে কাজে যথাযথ সহযোগিতা করছেন না বলে অভিযোগ। নিয়মিত ফিল্ডে গিয়ে কাজের গুণমান ও অগ্রগতি পরিদর্শনের যে প্রশাসনিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তা অনেকেই মানছেন না। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অফিসে বসেই কাজ সারার এই প্রবণতার কথা বিস্তারিতভাবে এদিন বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর কানে তোলা হয়েছে।
প্রশাসনিক আধিকারিকদের কাছ থেকে এই নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ শুনে বৈঠকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। গ্রামীণ অর্থনীতির পুনরুজ্জীবন ও পরিকাঠামো গড়ার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে এমন মনোভাব যে সরকার সহ্য করবে না, তা স্পষ্ট করে দেন তিনি। এই প্রশাসনিক বৈঠকে পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, পঞ্চায়েত দফতরের সচিব পি উল্গানাথন ছাড়াও সব জেলাশাসক এবং বিডিও-রা ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ব্লকে ব্লকে কর্মী ও ইঞ্জিনিয়ারদের শূন্যপদ মেটাতে ৭ হাজার ১৯০ পদে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। দীপাবলির ছুটির পর বিশেষ বিধানসভা অধিবেশন ডেকে এই সংক্রান্ত নিয়োগ বিল পেশ করা হবে বলে আশ্বাস দেন। তিনি জানান, দিনে ২২ লক্ষ মানুষ ১২৫ দিনের কাজ পাচ্ছেন। এই প্রকল্পে ১৩ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ করা হয়েছে । তারমধ্যে কেন্দ্র সরকার দেবে ৮ হাজার কোটি টাকা। ৫ হাজার কোটি টাকা দেবে রাজ্য। ইতিমধ্যেই প্রথম ধাপে কেন্দ্র ১২০০ কোটি টাকা দিয়ে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু বলেন, ‘১০ লক্ষ নতুন জব কার্ড দেওয়া হয়েছে। আমাদের মনে হচ্ছে ভারত সরকার দেওয়ারের লক্ষ্য পূর্ণ করতে পারব। কাজ শুরু হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ৬৫ লক্ষ ৬২ হাজার কর্মদিবস তৈরি করতে পেরেছি।’
দশ লক্ষ নতুন জব কাড়ড দেওয়া হয়েছে : মুখ্যমন্ত্রী
