পরিবেশ বাঁচিয়ে ও নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে রবীন্দ্র সরোবরে ফের ছটপুজোর অনুমতি দেওয়ার কথা ভাবছে রাজ্য সরকার।মঙ্গলবার পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী জানিয়েছেন, এলাকাভিত্তিক পুণ্যার্থীদের আবেগের কথা মাথায় রেখেই প্রশাসন এমন চিন্তাভাবনা করছে। এদিন অগ্নিমিত্রা বলেন, ‘এর আগে তো রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজো করতে দেওয়া হত না। আমরা এবার ভাবছি করতে দেব। কেন করতে দেব না? সেখানকার মানুষগুলো কোথায় ছটপুজো করবেন?’
তিনি স্পষ্ট করেন, পরিবেশকে কোনওভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেওয়া হবে না। তাঁর কথায়, ‘এখানকার যাঁরা ছটপুজোর সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত। তবে সবটাই হবে পরিবেশ বাঁচিয়ে, চিন্তার কোনও কারণ নেই।’
তিনি জানান, আদানি গোষ্ঠীর উদ্যোগে গঙ্গা তীরবর্তী কুমোরটুলি ঘাটের খোলনলচে বদলাছে। শুধু কয়েকটি ঘাট নয় এবার গঙ্গার দুই ধারকে আধুনিক, সুপরিকল্পিত ও নাগরিকবান্ধব পরিকাঠামোয় সাজিয়ে তোলার লক্ষ্যে বিপুল পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য সরকার।
কলেজ স্ট্রিটের বর্ণ পরিচয় বাজার ও কলেজ স্ট্রিট বইপাড়ার উন্নয়ন, বিভিন্ন এলাকায় ব্যাঙ্ককের ধাঁচে হকার স্টল থেকে শুরু করে ফুড কোর্ট, নাইট বাজার তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। দিল্লি, মুম্বই ধাঁচে বস্তি এলাকার আমূল সংস্কার করা। রাজ্যের সর্বত্র শৌচালয় নির্মাণ। নবদ্বীপ শহরে পুণ্যযাত্রীদের জন্য আন্তর্জাতিক কাঠামোয় শহর উন্নয়ন। এছাড়াও চায়না টাউনকে ঢেলে সাজানোর ব্যবস্থা। চন্দননগরে নদীর তীরবর্তী এলাকার উন্নয়ন। বিধাননগরের বহু জায়গায় সরকারি আবাসন আছে, যা জীর্ণ অবস্থায় সেগুলির নতুন করে উন্নয়ন করা হবে।
অগ্নিমিত্রা ‘মডেল’ মুম্বইয়ের মেরিন ড্রাইভ কথা ঘোষণা করেন। সেখানে যেভাবে আরব সাগরের দুপারে অত্যাধুনিক শহর তৈরি হয়েছে, সেই ধাঁচেই তৈরি করা হবে সব কিছু। শুধু ঘাটগুলি সাজানো নয়, মেট্রো, হাইওয়ে, সাইকেল ট্র্যাক থেকে শুরু করে বিরাট পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি। এই পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দফতরেও।
তিনি বলেন, ‘অনেক বড় স্বপ্ন দেখছি। উপরে ফোর লেন হাইওয়ে থাকবে। সাইকেল ট্র্যাক থাকবে। সাইকেল ট্র্যাকের জন্য নেদারল্যান্ডের একটি সংস্থার সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা গঙ্গার দুই পাশে উন্নয়ন করব। এটা একটা বিরাট প্রজেক্ট। সেখানে কেএমসি, এইচএমসি, এনবিসিসি ও ইউডিএম-এর মধ্যে মউ সাক্ষরিত হয়েছে। এনবিসিসি ভারত মণ্ডপমের মতো কাজ করেছে। কলকাতাতেও বহু কাজ করেছে। তাই তাদের বড় কাজের অভিজ্ঞতা আছে। কোল ইন্ডিয়ার হেড অফিস, সৌজন্য, ধনধান্য তারা বানিয়েছে। সুন্দর ও টেকসই কাজ করে। সময় মধ্যেই কাজ শেষ হবে। এক একটি কাজের বিভিন্ন রকম সময় লাগবে। দ্রুত প্রতিটি মউ অনুসারে সমীক্ষা শুরু হবে।’
এছাড়াও ব্যাংকক মডেলে শহরের হকারদের বসার জন্য ‘হকার জোন’ তৈরি করা হবে বলে উল্লেখ করেন। মন্ত্রী জানান, ব্যাংকক মডেলে ফুড কোর্ট বানিয়ে দেওয়া যেতে পারে। ফুটপাথেই হতে হবে তার কোনও মানে নেই। ফুড স্ট্রিট বানিয়েও দেওয়া হতে পারে। সেখানে গাড়িঘোড়া ঢুকবে না। টেন্টও বানিয়ে দেওয়া যেতে পারে। তিনি আরও যোগ করেন, লন্ডনে অনেক জায়গায় টোটোর মতো গাড়িগুলিতে খাবারের দোকান বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেটাও করা হতে পারে এরাজ্যে।
দীর্ঘ বছর ধরে রবীন্দ্র সরোবর নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন পরিবেশকর্মী সুমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের রবীন্দ্র সরোবরে ছট পুজো করার অনুমতি দেওয়ার চিন্তাভাবনার বিষয়টিকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন। তিনি বলেন তিনি বলেন পরিবেশ আদালত সহ শীর্ষ আদালত সুপ্রিম কোর্টের রায় রয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে রবীন্দ্র সরোবরের ছট পুজো করা যাবে না। তাহলে কি অগ্নি মিত্রা পাল সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে অবমাননা করতে চলেছেন। উল্লেখ্য বিগত তৃণমূল কংগ্রেস সরকার পরিবেশ আদালতের দেশকে অগ্রাহ্য করে বেশ কিছু বছর ধরে হিন্দু সরোবরের ছট পুজো করার অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু পরে কর্মীদের অতি সক্রিয়তার পর সুপ্রিম কোর্ট কড়া নির্দেশ দিলে গত কয়েক বছর ধরে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার রবীন্দ্র সরোবর এ ছট পুজো করার ব্যাপারে থেকে বিরত থাকে। ওই দিনের সরোবরের বিভিন্ন গেটে রাখা হয়। পরিবর্তে কার স্থানীয় বিভিন্ন পুকুরের ঘাটে ছট পুজো করার ব্যবস্থা করে দিয়েছিল।
