কংগ্রেস আগেও হারত, এখন হেরে কমিশনকে দায়ী করছে : স্মৃতি ইরানী

রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ শিবিরের কর্মসূচি ছিল।এর পালটা ‘গনতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ কর্মসূচি নিয়েছে বিজেপি। মঙ্গলবার দুপুরে কলকাতায় এসেছিলেন বিজেপি নেত্রী স্মৃতি ইরানি। অনুপ্রবেশ ইস্যুতে এবার বিঁধলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর দল তৃণমূলকে। একযোগে গোটা বিরোধীদলকেও নিশানা করেছেন তিনি। জানালেন, ‘কংগ্রেস আগেও হারতো। এখন হেরে কমিশনকে দোষ দিচ্ছে।’
এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও। তাঁর চ্যালেঞ্জ, ‘অধীর দা, সিপিএম, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একসঙ্গে মিছিল করুক।’
বিজেপি নেত্রী বলেন, ‘দিল্লি সমাবেশে ব্যর্থ ইউপিএ জোটের বৈঠকে এক তৃণমূল নেত্রীর মুখ থেকে অসাবধানতাবশত সত্য বেরিয়ে এসেছে যে, তাঁরা বাংলা লুট করার পর এবার দিল্লিও লুট করতে চান। বাংলার রাজনৈতিক হিংসার প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, যে দল অতীতে পশ্চিমবঙ্গে গণতন্ত্রকে পদদলিত করেছে, বিজেপি কর্মীদের ওপর আক্রমণ চালিয়েছে, মহিলা কর্মীদের ওপর অত্যাচার করেছে— আজ সেই রাজনৈতিক গুন্ডারাই রামলীলা ময়দানে কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছে।’
মমতাকে আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে ভোটার লিস্টে অনুপ্রবেশকারীদের জায়গা দেওয়া হয়েছে। এখানে আন্দোলন না করে, দিল্লি যাচ্ছে।’ মোদী সরকারকে মসনদ থেকে নামাতে ও দেশকে বদনাম করতে বিদেশি সাহায্যও নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি তাঁর। স্মৃতির কথায়, ‘রাহুল গান্ধী লন্ডনে গিয় বলছেন মোদিকে হারাতে চান।’
তিনি জানান, সুপ্রিম কোর্ট এবং বিচারব্যবস্থাকে কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর পর এবার সরাসরি দেশের গণতন্ত্রের চালিকাশক্তি নির্বাচন কমিশনের ওপর আক্রমণ করা হচ্ছে। ইভিএম থেকে শুরু করে নির্বাচন কমিশন, সুপ্রিম কোর্ট এবং দেশের সংসদ— একের পর এক সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ওপর অবিশ্বাসের বাতাবরণ তৈরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি আরও বলেন, ‘কংগ্রেস আগে থেকেই নির্বাচন হারছে। এবার কমিশনকে দোষ দিচ্ছে। ২০২৪ সালে জ্ঞানেশকুমার নির্বাচন কমিশনারই ছিলেন না।’
স্মৃতি আরও কটাক্ষ করে বলেন, ‘একসময় ‘প্রিন্স ইন ওয়েটিং’ বা যুবরাজ ঘোষণা করেছিলেন যে মোদীর সঙ্গে নয়, তাঁর লড়াই ভারতীয় রাষ্ট্রের সঙ্গে, তিনিই আজ ৯০ কোটি ভোটার দ্বারা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ‘অবৈধ’ বলে দাগিয়ে দিচ্ছেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *