দার্জ্জিলিংয়ের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজনীতিতে বংশানুক্রমিতাকে কটাক্ষ করলেন এক নতুন আঙ্গিকে।
মঙ্গলবার দার্জিলিংয়ে বিজেপির ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হঠাও’ কর্মসূচি থেকে একযোগে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস-সহ সমস্ত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিকে নিশানা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার কলকাতার পর শিলিগুড়িতে বিশেষ কর্মসূচি ছিল বিজেপির। পদযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, নিশীথ প্রামাণিক, রাজু বিস্তা সহ অন্যানরা।
মিছিল শেষে জনসভা থেকে শুভেন্দু বলেন, ‘ভারতে ৪জি আছে, ৩জি আছে, ২জি আছে। মোদীজির কোনও জি নেই।’ এরপরই তিনি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, “৪জি হল, চাচা নেহরু, বেটি ইন্দিরা, রাজীব গান্ধী, রাহুল গান্ধী। ৩ জি হল শেখ আব্দুল্লা, ফারুক আব্দুল্লা, ওমর আব্দুল্লা।’ এরকম ৩জি আরও অনেক আছে বলে উদাহরণ দিতে গিয়ে করুণানিধি, স্ট্যালিন, উদয়নিধির কথাও বলেন তিনি। এরপর আরও বলেন, ‘২ জি-র তো ছড়াছড়ি। “পিসি-ভাইপো, মৌলানা-মুলায়ম, লালু- তেজস্বী, মুফতি-মেহবুবা। মোদীজির কিচ্ছু নেই। আগে দেশ, পিছে দেশ।’
এদিন নাম না করে আরও একবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করলেন শুভেন্দু অধিকারী। সভায় উপস্থিত কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘ভাইপো ভাইপো করছেন কেন? ভাইপোর কী হয় সময় হলে দেখবেন”, সেই কথা জোর গলায় বলেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘এই সরকার শাহজাহানকেও ছাড়েনি, পুষ্পাকেও ছাড়েনি।’ নরেন্দ্র মোদি, বিজেপি যত দিন আছে, ততদিন মমতা-অভিষেক ভোটে জিততে পারবেন না। সেই কথাও জানান শুভেন্দু।
রামলীলা ময়দানের কর্মসূচিকে কটাক্ষ করেন শুভেন্দু অধিকারী। যারা ভোটে হেরে গিয়েছে, তারা দিল্লিতে একজোট হয়েছে বলে তাঁর আক্রমণ। ‘আরশোলা’, ‘ছারপোকা’রা দেশের ভিতরে শান্তি নষ্ট করার চেষ্টা করেছেন বলে ফের সুর চরান শুভেন্দু।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘’নরেন্দ্র মোদীর ব্যক্তিগত কিচ্ছু নেই। তাঁর আগে দেশ, পিছনেও দেশ। মোদীজি না থাকলে সুপ্রিম কোর্টের রায় কার্যকর হত না এবং রামলালার জন্মস্থান অযোধ্যায় তাঁর মন্দির, প্রাণপ্রতিষ্ঠাও সম্ভব হত না।’
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ক্ষমতায় থাকতে গেলে ভোটে লড়তে হয়, আর ক্ষমতায় আসতে গেলে ভোটে জিততে হয়। যতদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজি নেতৃত্ব দিচ্ছেন, এই বিরোধী দলগুলির কেউ কোনও দিন কোনও নির্বাচনে জিততে পারবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘পরাজিত সমস্ত শক্তি আজ দিল্লিতে গিয়ে জমায়েত হয়েছে। এরা দেশে বাংলাদেশের মতো জামাতি, মৌলবাদী, দিমাগী নকশাল, মাওবাদী ও জঙ্গি পরিস্থিতি তৈরি করতে চায় এবং ‘ভারত কি বরবাদি’ বা ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’ স্লোগান দেওয়া টুকরো টুকরো গ্যাংয়ের দোসর হয়েছে।’
উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের কথা মনে করিয়ে তিনি বলেন, ‘৬ মাসে ১০ বার উত্তরবঙ্গে এসেছি। উত্তরবঙ্গকে বাদ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ নয়। বিজেপিকে যদি প্রথম কেউ জায়গা দিয়ে থাকে তা হল দার্জিলিং। প্রথম এমপি দিয়েছে। কাজ দিয়ে ভরিয়ে দেব।’ শুভেন্দু জানিয়ে দেন, রায়গঞ্জে এইমস হলে, জলপাইগুড়িতে ক্যান্সার হাসপাতাল, বালুরঘাট, আলিপুরদুয়ার, কালিম্পঙে মেডিক্যাল কলেজ হবে। বাদ যাবে না শিলিগুড়িও। আইআইটি বা আইআইএম গড়ার জন্য জায়গা দেখার কাজ চলছে। এছাড়াও তাঁর কথায়, ‘নন্দীগ্রাম, রেজিনগর, ফলতায় যা হয়েছে কলকাতাতেও তাই হবে, ফেব্রুয়ারি মাসে শিলিগুড়িতে ভোট হবে।’
