সিকিম সফরে যাওয়ার আগে শিলিগুড়িতে শনিবার দীপাবলি উপলক্ষে বাগডোগরা এয়ার ফোর্স স্টেশন পরিদর্শন করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। এদিন এয়ার ওয়ারিয়র্স ও আধিকারিকদের সঙ্গে শামিল হলেন তিনি।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমি জানি, এই উৎসবের দিনে আপনাদের বাড়ির কথা মনে পড়ছে। কিন্তু সেই স্মৃতিগুলিকে বুকে রেখে আপনারা দেশের নিরাপত্তার কাজে নিরবিচ্ছিন্নভাবে নিয়োজিত রয়েছেন। আপনাদের এই ত্যাগের কথায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। আপনাদের এই তপস্যাকে শ্রদ্ধা জানাই।’
প্রতিরক্ষামন্ত্রী সাফ জানান, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্র আর শুধু সীমান্তেই সীমাবদ্ধ নেই; সাইবার হামলা, ড্রোন হানার পাশাপাশি ভুল তথ্য বা ন্যারেটিভ ছড়িয়ে সাধারণ মানুষের মনে বিভ্রান্তি তৈরির মতো হাইব্রিড ওয়ারফেয়ার শুরু করেছে শত্রুরা। এর মোকাবিলায় জওয়ানদের সর্বোচ্চ স্তরের অপারেশনাল প্রস্তুতি বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘প্রায়ই দেখা যায় শত্রুপক্ষ সরাসরি মুখোমুখি সংঘাত এড়িয়ে আমাদের দুর্বলতাগুলোকে পুঁজি করার চেষ্টা করে। সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার করে তারা স্থানীয় মানুষ এবং আমাদের জওয়ানদের মনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে আপনাদের ভূমিকা শুধু সাধারণ জওয়ানের সীমানার মধ্যে আটকে থাকে না।’
তিনি জওয়ানদের সামরিক দক্ষতার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সচেতনতা, সাইবার রেজিলিয়েন্স ও ডোমেইন অ্যাওয়ারনেস বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন। আধুনিক যুগের যুদ্ধকৌশলে যন্ত্র ও প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পেলেও সেনার শৃঙ্খলা এবং আত্মবিশ্বাসকেই সবথেকে বড় হাতিয়ার বলে চিহ্নিত করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তি যতই আধুনিক হোক না কেন, জওয়ানদের মধ্যে যদি শৃঙ্খলা ও সাহস না থাকে, তবে প্রযুক্তি নিজের জায়গায় অর্থহীন। শৃঙ্খলাই আপনাকে একজন সাধারণ সৈনিক থেকে অসাধারণ যোদ্ধায় রূপান্তরিত করে।’
তাঁর মতে, স্থানীয়দের সঙ্গে জওয়ানদের যত বেশি যোগাযোগ বাড়বে, শত্রুর ষড়যন্ত্র ততটাই দুর্বল হয়ে পড়বে। জওয়ানদের শৃঙ্খলাপরায়ণতা ও বীরত্বের প্রশংসা করে তিনি বলেন, সেনার আচরণ ও সংযমই সাধারণ মানুষের মনে দেশের সামরিক বাহিনীর ভাবমূর্তি গড়ে তোলে।
