বিজেপি বাংলায় ক্ষমতায় আসার পর কর্মসংস্থানের নতুন দিশা দেখছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্দেশনায় শিল্পে কলকাতার হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে এবার বাংলায় আয়োজিত হতে চলেছে বিশ্বমানের শক্তি সম্মেলন ‘ভারত শক্তি সপ্তাহ’। সোমবার ‘কার্টেন রাইজার’ অনুষ্ঠান শেষে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীকে পাশে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকেই অশোকনগরের তেল উত্তোলন প্রকল্প, হলদিয়া রিফাইনারির সম্প্রসারণ এবং সুন্দরবনে ম্যানগ্রোভ রোপণ-সহ একাধিক পরিকাঠামোগত প্রকল্পের চিত্র তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন ছিলেন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী। আগামীতে বহু কর্মসংস্থান হবে বলেই আশাবাদী মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু বলেন, ‘রাজ্যের আগের সরকার রাজনৈতিক কারণে একাধিক লাভজনক শিল্প প্রকল্প চালু করতেই দেয়নি। কিন্তু বর্তমান সরকার একগুচ্ছ সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং সেগুলিকে সফল রূপ দেওয়া হবে। জ্বালানি ও শক্তি সেক্টরে আগামী দিনে বিপুল বিনিয়োগ আসবে, প্রকল্পগুলির সম্প্রসারণ ঘটবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের দিশা মিলবে।’
এদিন মুখ্যমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা করেন হরদ্বীপ সিং পুরী। তিনি বলেন, ‘বাংলায় এত বছরে কী হয়েছে ভেবে লাভ নেই। এবার শুভেন্দু আছেন। বাংলায় শিল্প আসবে। মোদিজি দেখোনো পথে বাংলাকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন তিনি।’ বাংলার শিল্পের ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী খুব স্পষ্ট ছিলেন যে বাংলায় এখন একজন ডায়নামিক তরুণ মুখ্যমন্ত্রী রয়েছেন, তাই আমরা এখানেই ভারত শক্তি সপ্তাহ করব।”
বিনিয়োগ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, অশোকনগরে ওএনজিসি ইতিমধ্যে এক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। তিনি স্পষ্ট বলেন, “রাজ্য সরকার এখনকার মতো সহযোগিতা করলে রাজস্ব রাজ্যের হাতেই আসবে।” ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের মতো বিশ্বের সপ্তম বৃহৎ সংস্থার বৃদ্ধি ও সম্প্রসারণে রাজ্যের বর্তমান সরকারের ইতিবাচক ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, গভীর সমুদ্রে তেল খোঁজার জন্য বিশাল খরচ হয়, তাই রাজ্য সরকার দ্রুত অনুমতি দিলে সেই কাজ ত্বরান্বিত হয়। শহর এলাকায় পাইপলাইনের মাধ্যমে ডোমেস্টিক গ্যাস সরবরাহ বা সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণের কথাও জানান তিনি।
অশোকনগরে তেল উত্তোলন শরু হয়েছে, রাজস্ব রাজ্যই : হরদীপ সিং পুরী
